কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার শাহারবিল ইউনিয়ন পরিষদ সংলগ্ন চিরিঙ্গা-বদরখালী সড়কের চকরিয়া রেলের চায়না ব্রিজে সংলগ্ন প্রাঙ্গণে, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে, রামু ব্যাটালিয়ান, ৩০ বিজিবি’র আয়োজনে এক প্রেস ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়েছে। ৪ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখ বিকেলে চকরিয়ায় কর্মরত স্থানীয় সাংবাদিক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যাক্তিবর্গের উপস্থিতিতে এ প্রেস ব্রিফিং এ বক্তব্য রাখেন রামু ব্যাটালিয়ন ৩০ বিজিবি’র অধিনায়ক, লে, কর্ণেল মাহাতাব।
তিনি এক প্রেস রিলিজের মাধ্যমে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজিবি’র সার্বিক ভূমিকার বিষয়ে তুলে ধরেন।এ সময় উপস্থিত ছিলেন, চকরিয়া সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি, দি ডেইলি নিউ নেশন এর চকরিয়া- পেকুয়া প্রতিনিধি ও অনলাইন পত্রিকা আলোকিত চকরিয়া ডট কম এর সম্পাদক ও প্রকাশক বি এম হাবিব উল্লাহ, সাংবাদিক মনির আহমদ, সাইফুল ইসলাম খোকন, অলি উল্লাহ রনি, আব্দুল্লাহ মালেক সিকদার, জহিরুল আলম সাগর, আব্দুল্লাহ আল মামুন, এম নুরুদ্দোজা, ওমর আলী, জামাল হোসাইন, মো: আয়ুব প্রমুখ। প্রেস ব্রিফিং এ প্রকাশিত প্রেস রিলিজের অংশ বিশেষ জনস্বার্থে তুলে ধরা হলো। রামু ব্যাটালিয়ন (৩০ বিজিবি) কতৃক প্রকাশিত- আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) দেশের সীমান্ত নিরাপত্তা অক্ষুণ্ণ রাখার পাশাপাশি নির্বাচনকালীন আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা ও ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সর্বাত্মক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। একটি পেশাদার, শৃঙ্খলাবদ্ধ ও রাজনৈতিকভাবে নিরপেক্ষ বাহিনী হিসেবে বিজিবি নির্বাচন প্রক্রিয়াকে অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য করতে সক্রিয়ভাবে দায়িত্ব পালন করবে। নির্বাচন উপলক্ষ্যে রামু ব্যাটালিয়ন (৩০ বিজিবি) এর উপর কক্সবাজার জেলার রামু ও চকরিয়া উপজেলা নির্বাচনী দায়িত্ব অর্পিত হয়েছে। দায়িত্বপূর্ণ এ দুই উপজেলায় সর্বমোট ১৯৪ টি ভোট কেন্দ্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে, যার মধ্যে রামু উপজেলায় ৬৪ টি এবং চকরিয়া উপজেলায় ১৩০ টি ভোট কেন্দ্র অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। প্রতিটি ভোট কেন্দ্রে ঝুঁকি মূল্যায়নের ভিত্তিতে রামু ও চকরিয়া উপজেলায় সর্বমোট ০৯ প্লাটুন বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। নির্বাচনকালীন দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার ও মাননীয় নির্বাচন কমিশনের সকল নির্দেশনা বিজিবি কর্তৃক কঠোরভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে। আধুনিক প্রযুক্তির সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করতে নির্বাচনী এলাকায় ডিজিটাল যোগাযোগ ব্যবস্থা (ডিএমআর বেস, ডিএমআর ওয়াকিটকি ও ইউএইচএফ ওয়াকিটকি সেট), রিয়েল-টাইম রিপোর্টিং (নির্বাচনী সুরক্ষা এ্যাপস), জিপিএস ভিত্তিক টহল কার্যক্রম এবং সমন্বিত কমান্ড ও কন্ট্রোল (জেলা মনিটরিং সেল ও ইউনিট মনিটরিং সেল) ব্যবস্থার মাধ্যমে পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে। এছাড়াও প্রতিটি ভোটকেন্দ্রের সকল কার্যক্রম ও পরিস্থিতি পর্যবেক্ষন করার জন্য ড্রোনের ব্যবহার নিশ্চিত করা হবে। ব্যাটালিয়ন সদর হতে নির্বাচনী দায়িত্বে নিয়োজিত প্রতিটি সদস্যকে ইতোমধ্যে রায়োট কন্ট্রোল ও পরিস্থিতিগত প্রশিক্ষণ অনুশীলন (STX) এবং প্রয়োজনীয় মহড়া সম্পন্ন করা হয়েছে। ফলে প্রতিটি সদস্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জামাদি নিয়ে নির্বাচনী দায়িত্ব পালনে পেশাগতভাবে প্রস্তুত, আত্মবিশ্বাসী ও শৃঙ্খলাবদ্ধ। ভোটাররা যেন নিরাপদ, শান্ত ও ভীতমুক্ত পরিবেশে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, সে লক্ষ্যে বিজিবি অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, প্রশাসন ও স্থানীয় নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সাথে ঘনিষ্ঠ সমন্বয়ের মাধ্যমে দায়িত্ব পালন করছে। একই সঙ্গে জনগণের আস্থা বৃদ্ধিতে সচেতনতামূলক ও উদ্বুদ্ধকরণমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সীমান্ত ও সীমান্ত সংলগ্ন এলাকাগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে, যাতে কোনো ধরনের চোরাচালান, অবৈধ অনুপ্রবেশ, অস্ত্র বা মাদক পাচার নির্বাচন প্রক্রিয়ায় বিরূপ প্রভাব ফেলতে না পারে। সে লক্ষে টহল, গোয়েন্দা নজরদারি এবং তথ্যভিত্তিক আভিযানিক কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। এছাড়াও নির্বাচনী এলাকায় অবৈধ অস্ত্র প্রবেশ ও দুস্কৃতিকারীদের অনুপ্রবেশ রোধে বিজিবি টহল দল কর্তৃক নিয়মিতভাবে অস্থায়ী চেকপোস্ট স্থাপনের মাধ্যমে নির্বাচনী এলাকার সুরক্ষা নিশ্চিত করা হচ্ছে।
ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি মোকাবেলায় বিজিবি’র মোবাইল ও স্ট্যাটিক ফোর্স, বিশেষায়িত কে-৯ ডগ স্কোয়াড, র্যাপিড অ্যাকশন টিম (RAT) এবং প্রয়োজনবোধে কুইক রেসপন্স ফোর্স (QRF) সর্বদা প্রস্তুত থাকবে, যারা অল্প সময়ের মধ্যেই ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম হবে। রামু ব্যাটালিয়ন (৩০ বিজিবি) দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে যে, সরকার, নির্বাচন কমিশন, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও জনগণের সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে কক্সবাজার জেলার রামু ও চকরিয়া উপজেলায় আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন শান্তিপূর্ণ, সুষ্ঠু ও উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হবে। সংবিধান ও আইনের আলোকে জনগণের আস্থা ও ভোটাধিকার সুরক্ষায় বিজিবি তার দায়িত্ব সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব, সততা ও নিষ্ঠার সাথে পালন করবে ##
